চট্টগ্রামে বর্ষা মানেই পাহাড়ধসের আতঙ্ক, এবারের পরিস্থিতি কেমন?

চট্টগ্রাম

ছবির উৎস, Getty Images

    • Author, মরিয়ম সুলতানা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ভারী বর্ষা শুরু হলেই চট্টগ্রামের পাহাড়ে পাহাড়ে মাইকিং করা হয়, সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়, আবহাওয়া অফিস থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবুও থেমে নেই প্রায় প্রতিবছর পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বাংলাদেশের সাত জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এগুলোর মাঝে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলো, বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল। চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যাও দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে একদিনে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসের জন্য কি শুধু অতিবৃষ্টিই দায়ী, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও দীর্ঘদিনের মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণ?

অতীতে এই অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড়ধস কবে হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের পাহাড়ধসের ঝুঁকি কতটা, এসব প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

এবারের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এবারের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এবারের বৃষ্টি কতটা অস্বাভাবিক?

বাংলাদেশে সাধারণত সারাবছর যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার ৭১ শতাংশ-ই হয় বর্ষাকালে।

জুন, জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর – এই চার মাসকে বর্ষা মৌসুম ধরা হয়। এই চার মাসের মাঝে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, আর তখনই পাহাড়ধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তবে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের মতে, এবারের বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন। কারণ, এ বছর মৌসুমি নিম্নচাপটি বাংলাদেশের উপকূলের খুব কাছ দিয়ে পশ্চিমমুখী অগ্রসর হয়েছে। ফলে সারা দেশে সমানভাবে বৃষ্টি না হয়ে মূলত চট্টগ্রাম বিভাগেই অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

"সাগরে মৌসুমি নিম্নচাপের অবস্থানের ওপরই বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটা নির্ভর করে। নিম্নচাপ যদি বাংলাদেশের উপকূলের কাছাকাছি থাকে, তাহলে এখানে বেশি বৃষ্টি হয়। আর যদি উড়িষ্যার দিকে সরে যায়, তাহলে বৃষ্টিও সেদিকেই বেশি হয়," বলেন তিনি।

তার ভাষ্য, এবারের নিম্নচাপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করলেও এর দিক ছিল সরাসরি পশ্চিম দিকে। সাধারণত নিম্নচাপ দক্ষিণ দিক থেকে কিছুটা উত্তরের দিকে থাকে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগেই বৃষ্টির মেঘ আটকে যায়।

"চট্টগ্রামের পূর্বদিকে পাহাড় থাকায় আর্দ্র বাতাস সহজে তা অতিক্রম করতে পারেনি। তাই একই এলাকায় কয়েকদিন ধরে সেই বাতাস জমে থাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিম্নচাপটি যদি আরও উত্তর দিকে যেত, তাহলে বৃষ্টি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তো," বলেন তিনি।

২০০৭ সালের ১১ই জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০০৭ সালের ১১ই জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন।

এসব কারণেই এ বছর মূল বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে এবং বাকিটা বরিশাল বিভাগে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিলো ১৯৮৩ সালে, ৪০৭ মিলিমিটার।

মি. রশীদ জানান, পাহাড়ধসের পেছনে এই বৃষ্টিপাত একটি বড় ভূমিকা পালন করে, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমের ধরনেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

"আগে বর্ষার শুরুতেই নিয়মিত বৃষ্টি হতো। এখন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি কম হচ্ছে। যেমন, এ বছর জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পরে অন্যসময় গিয়ে এটা বেড়ে যায়," বলেন তিনি।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের মতে, এ বছর শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ এল নিনোর সময়ে বাংলাদেশে অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়। তবে পরে অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা দেখা দেয়।

উল্লেখ্য, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণে পরিবর্তন আসে।

চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা বসতিগুলোর ওপর থেকে তোলা ছবি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা বসতিগুলোর ওপর থেকে তোলা ছবি।

পাহাড়ধসের মূল কারণ কী?

একদিনের ভারী বৃষ্টিতে সাধারণত বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয় না।

বরং কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে মাটি পানিতে সম্পৃক্ত হয়ে গেলে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অল্প চাপেও মাটির স্তর সরে গিয়ে ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে শুধু বৃষ্টিই পাহাড়ধসের জন্য দায়ী নয়। পাহাড়ের মাটির গঠন এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডই মূলত পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলে জানান মি. রশীদ।

"রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা হয়েছে। একটা সময় বড় ধরনের ভূমিধস হওয়ার জন্য অনেক বেশি বৃষ্টির প্রয়োজন হতো। অথচ এখন তুলনামূলক কম বৃষ্টিতেই ভূমিধস হচ্ছে," বলেন তিনি।

তার মতে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়াও এর একটি কারণ।

"আমরা পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছি। যেখানে যে ধরনের গাছপালা থাকার কথা, সেখানে তা নেই। ফলে মাটির বাঁধন দুর্বল হয়ে গেছে।"

এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের পাহাড়ের বয়স এক থেকে দেড় কোটি বছর। কিন্তু চট্টগ্রামে যেসব পাহাড় রয়েছে, সেগুলোর বয়স ২৫ লক্ষ বছরের মতো। পাথর হওয়ার মতো বয়স হয়নি।

২০১২ সালের জুনে চট্টগ্রামে পাহাড়ধস হয়েছিলো, লাশ খুঁজছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১২ সালের জুনে চট্টগ্রামে পাহাড়ধস হয়েছিলো, মরদেহ খুঁজছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

"চট্টগ্রাম শহরে একসময় বিপুল পরিমাণ পাহাড় থাকলেও এখন তার এক তৃতীয়াংশ টিকে আছে। এই পাহাড়গুলোর জন্মই হয়েছে প্রবল ভূমিকম্পে সাগর থেকে উত্থিত হয়ে। অর্থাৎ, এগুলো জন্মগতভাবেই ক্ষয়িষ্ণু। সেকারণেই এগুলো বালুময় পাহাড়। তবে যেকোনো পাহাড়েরই ক্ষয়ের স্বাভাবিক পদ্ধতি আছে। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে কিছু ক্ষয় হতে পারে, ভেঙ্গে পড়তে পারে। কিন্তু পাহাড় ধ্বংস ও পাহাড় ক্ষয় এক জিনিস না। ক্ষয় প্রাকৃতিক, ধ্বংস মানবসৃষ্ট।

অর্থাৎ, পাহাড়ের পাদদেশে অনিয়ন্ত্রিত বসতি, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ধ্বংস– মূলত এই তিনটি কারণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ধস হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

মি. মজুমদার বলেন, "সিলেটে পাহাড় থাকলেও ধসের খবর ওভাবে পাওয়া যায় না। কারণ ওখানে এত বসতি নাই এবং সিলেট শহরে যা আছে, তা মূলত টিলা। পাশাপাশি, সিলেটের পাহাড়ে সিলিকা বেশি, বালির পরিমাণ কম। বলা যায়, ওগুলো পাথর হওয়ার পূর্ব অবস্থায় আছে।"

''কিন্তু চট্টগ্রামের বালুময় মাটির ফাঁকা জায়গায় যখন অল্প সময়ের মাঝে অনেক বেশি বৃষ্টি পড়ে, তখন পানি জমে মাটির ওজন বেড়ে যায় এবং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে পুরো মাটির স্তর নিচের দিকে সরে যেতে শুরু করে এবং ধসের সৃষ্টি হয়। একবার ধস শুরু হলে পানি আরও ভেতরে ঢুকে আশপাশের অংশকেও দুর্বল করে দেয়, ফলে ধস দ্রুত বিস্তৃত হতে পারেন'', বলছিলেন তিনি।

পূর্বাভাস

ছবির উৎস, কারিতাস বাংলাদেশ

কোন এলাকাগুলো ঝুঁকিতে, অতীতে কী ঘটেছে?

বাংলাদেশের দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে নিহতদের বেশিরভাগ-ই হলে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের – ৫৩ জন।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকাগুলো বাংলাদেশের মধ্যে পাহাড়ধসের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ সেখানে পাহাড় কাটা, ঘনবসতি এবং ভারী বৃষ্টিপাত একসঙ্গে প্রভাব বিস্তার করে।

চলতি বছরের মতো অতীতেও বাংলাদেশে একাধিক প্রাণঘাতী পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি বাংলা'র বিভিন্ন পুরনো প্রতিবেদন ও স্থানীয় গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে, সে অনুযায়ী গত দুই দশকে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় তিনশো মানুষ নিহত হয়ে।

এর মাঝে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণাসহ ছয়টি স্থানেই পাহাড়ধসে প্রাণ হারান ১২৭ জন। ওই বছরের ১১ই জুন ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিলো।

এর দশ বছর পর ২০১৭ সালে পাহাড়ধসে ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

মাঝের এই বছরগুলোতেও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম তার এক গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে ১৩ জন, ২০১০ সালে কক্সবাজারে ৬৬ জন, ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ১৭ জন, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে সাত জন ও ২০১৯ সালে কক্সবাজারে দুইজন পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন।

টানা বর্ষণের ফলে ভূমিধসে চাপা পড়ে এ ধরণের বাড়িঘর।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, টানা বর্ষণের ফলে ভূমিধসে চাপা পড়ে এ ধরণের বাড়িঘর।

বড় ধসের ঝুঁকি কতটা, সমাধান আছে কোনো?

স্বল্প সময়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি পুরোপুরি শুকানোর সুযোগ পায় না।

আর, এর মাঝে মাটি পুরোপুরি শুকানোর আগেই যদি আবারও ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে যেসব জায়গার মাটি আগে থেকেই দুর্বল বা আলগা হয়ে আছে, সেগুলো ধসে পড়তে পারে। তবে ঠিক কত বড় পরিসরে বা কোন এলাকায় ধস হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

কিন্তু, একই পরিমাণ বৃষ্টিতে একটি পাহাড়ে ধস নামলেও পাশের আরেকটি পাহাড় অক্ষত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন।

"ঝুঁকি কমাতে হলে আগে থেকে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে যে কোন পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ। সেইসাথে, পাহাড় যেমন আছে, তেমনই রাখতে হবে। পাহাড়ে হাত দেওয়া যাবে না।"

তবে তিনি মনে করেন, "অল্প সময়ের মাঝে ফের ভারী বৃষ্টি না হলে আপাতত বড়-সড় পাহাড় ধস হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ বৃষ্টিতে মাটি এখন বসে গেছে। আর প্রথমদিনের বৃষ্টিতেও ধস হয় না। দুই-তিন বা পাঁচ-দশ বছর পর আবার ভারী বৃষ্টি হলে হয়তো বড় ধস হতে পারে।"

এ বছর বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। ছবিটি বান্দরবানের।

ছবির উৎস, RATAN

ছবির ক্যাপশান, এ বছর বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। ছবিটি বান্দরবানের।

প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদারও মনে করেন যে কোন পাহাড়ের ঢাল কতটা খাড়া, কোথায় মাটি দুর্বল হয়ে গেছে, এসব চিহ্নিত করে প্রশাসনকে জনগণকে জানাতে হবে। শুধুমাত্র তাহলেই আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

সেইসাথে, পাহাড় কাটার যে জরিমানা, সেই অংকটা বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ বলে মত তার।

"পাহাড়গুলো হয় সরকারের, না হয় ব্যক্তি মালিকানাধীন। কিন্তু এসব পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করা হয়। ধরা যাক, পাঁচ কাঠা জমির দাম পাঁচ কোটি টাকা। কিন্তু কেউ যদি পাহাড় কেটে ধরা পড়ে, তাহলে তার জরিমানা এক লক্ষ টাকা। সেক্ষেত্রে সে তো জরিমানা দিয়েই বৈধ হয়ে যাচ্ছে। তাই, জরিমানা বাড়ানো উচিৎ," ব্যাখ্যা করেন মি. মজুমদার।

একইসাথে, যারা পাহাড় কাটে ও তাদেরকে যারা দেখেও দেখে না, তাদের মাঝে সখ্যতা থাকে। এটা ঠেকানো গেলেও এই সমস্যা অনেকটা সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলছিলেন যে পাহাড়গুলো এখনো শুকায়নি। এখন ওগুলোতে যে পরিমাণ পানি আছে, এর মাঝে যদি আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে মাটির কোথাও আলগা থাকলে সে ভেঙ্গে যাবে।

তবে ২০০৭ কিংবা ২০১৭ সালের মতো চট্টগ্রামের সামনে বড়-সড় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আছে কিনা, জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম বলছেন যে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো দিনদিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ঠিকই।

কিন্তু পরবর্তী পাহাড়ধস কত বড় পরিসরে হবে, তা আগে-ভাগে নিশ্চিত করে বলা যায় না।