পত্রিকা: 'সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব আলমারিবন্দি'

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব আলমারিবন্দি'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হলেও তা পাঁচ মাস ধরে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই আলমারিতে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো পরবর্তী নির্দেশনা না আসায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খাম খুলে দেখেনি।
প্রশাসন ক্যাডারের হিসাব জমা দেওয়ার সংখ্যা জানা গেলেও অন্য ক্যাডারদের সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হিসাব পর্যালোচনা না করলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং কর্মকর্তারা ভাববেন এসবের কোনো ফল নেই।
যদিও নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবার হিসাব জমা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগই যাচাই করবে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া হিসাব কেবলমাত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। সচিবদের অনেকেই বলছেন, কীভাবে এগুলো যাচাই করতে হবে তা নিয়ে দিকনির্দেশনা মেলেনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক চিকিৎসক এখনও হিসাব দেননি, আবার কিছু তথ্য গোপনে ফাঁস করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তাছাড়া, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালায় যেহেতু বার্ষিক হিসাব দেওয়ার নিয়ম ছিল না, তাই তা সংশোধন করা ছাড়াই নতুনভাবে বার্ষিক হিসাব নেওয়ার ঘোষণা কিছুটা অনির্ধারিত অবস্থান তৈরি করেছে।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'মূল্যস্ফীতির চাপ ঠেকাতে নতুন বেতন কমিশন'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রায় এক দশক পর সরকার নতুন করে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কমিশন গঠন করেছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আগের কমিশনের পর ২০১৫ সালে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও তা আর হালনাগাদ হয়নি।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন-ভাতার সমন্বয় না হওয়ায় কর্মচারীরা অর্থকষ্টে রয়েছেন, তাই আবার বেতন স্কেল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল, রাজস্ব আদায় কম, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে গেছে, এই সময়ে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
কারণ এতে সরকারের পরিচালন খরচ আরও বাড়বে। আগের অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ছিল রেকর্ড পরিমাণ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ভালো বেতন পাচ্ছেন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে তারা প্রতিযোগিতা করতে পারছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন খরচের বোঝা চাপানো উচিত নয়।
তবে আগের বেতন কমিশনের প্রধান মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন মনে করেন, মূল্যস্ফীতির কারণে বেতন সমন্বয় এখন যৌক্তিক।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'গুলির নির্দেশ হাসিনার,আলজাজিরার হাতে কল রেকর্ড'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আলজাজিরার তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তারা একটি ফোন কল রেকর্ড প্রকাশ করেছে, যেখানে হাসিনা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের "উন্মুক্ত আদেশ" দেন বলে শোনা যায়।
তিনি বলেন, "যেখানেই পাবে সেখানেই গুলি করবে।"
এছাড়া হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর কথাও উঠে এসেছে, যা সরকারি বাহিনী অস্বীকার করলেও ঢাকার এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, তিনি এমন গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা করেছেন।
হাসিনার এই ফোনালাপ জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুরে আবু সাঈদ নামে এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি আন্দোলনের গতি বাড়ায়। তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বদলাতে পুলিশ চাপ দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের এক চিকিৎসক।
পরবর্তীতে আবু সাঈদের পরিবারসহ অন্যান্য নিহতদের পরিবারকে জোর করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এনে মিডিয়ার সামনে টাকা দেওয়া হয়, যেখানে আবু সাঈদের বোন সরাসরি প্রতিবাদ করেন।
আওয়ামী লীগ এই অডিওকে ভুয়া বা সাজানো বলে দাবি করেছে এবং বলেছে, শেখ হাসিনা কখনো প্রাণঘাতী অস্ত্রের নির্দেশ দেননি।
তবে আলজাজিরা বলছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় রেকর্ডিংটির সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।

'Khairul Haque's arrest raises questions over judicial power and constitutional balance' অর্থাৎ, 'বিচারিক ক্ষমতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খায়রুল হকের গ্রেপ্তার'
ঢাকা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, সংবিধান ও গণতন্ত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে কিশোর আবদুল কাইয়ুম আহাদের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
আদালত তাকে জেল হেফাজতে পাঠায়, যদিও শুনানিতে কোনো ডিফেন্স আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
তার বিরুদ্ধে আরও মামলা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ২০১১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় জালিয়াতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে।
২০১১ সালের সেই রায়ই বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিতর্কিত নির্বাচন ও দমন-পীড়নের শেকড় বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
তারা বলছেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হলে খায়রুল হক বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। তার বিচার সম্ভব, তবে প্রতিশোধ নয়, আইনের শাসনের ভিত্তিতে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদিন বলছেন, খায়রুল হক অবসরের পর সম্পূর্ণ রায় প্রকাশ করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তার মতে, এটা ন্যায়বিচার নয়, বিচার বিভাগের অপব্যবহার।
অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারকদের সাধারণত রায়ের জন্য আইনি সুরক্ষা থাকে, তবে যদি রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তখন বিচার হওয়া উচিত।
এখন প্রশ্ন উঠছে তাকে গ্রেফতারের ঘটনা কি প্রতিহিংসা নাকি জবাবদিহির সঠিক পথে যাত্রা?

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'উদ্যোগে ভাটা, স্থবির শিল্প খাত'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। উদ্যোক্তারা এখন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার বদলে টিকে থাকার লড়াই করছেন।
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, ডলার সংকট, জ্বালানিসংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে তারা ব্যবসা প্রসার না করে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি সাত মাস ধরে আট শতাংশের নিচে। এতে ভবিষ্যতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় তৈরি পোশাক খাত চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে, যেখানে ১৩ লাখের বেশি শ্রমিক নিয়োজিত।
অনেক বড় কারখানায় রপ্তানি আদেশ কমেছে, অর্ডার বাতিলও হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত বিকল্প বাজার খোঁজা ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো না গেলে বিপর্যয় আসবে।
ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রায় ধসে পড়েছে। ব্যাংকঋণের সুদের হার ১৩ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ছোট উদ্যোক্তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।
বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন সীমিত করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুদ কমানো ও ব্যবসাবান্ধব নীতিমালাই এখন একমাত্র সমাধান।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, '৩১ বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ, নড়বড়ে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের চা খাত বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছে। দেশের ৩১টি চা বাগানে শ্রমিকদের মজুরি ও সুবিধা দিতে না পারায় দেখা দিয়েছে শ্রমিক অসন্তোষ।
পাঁচটি বাগান ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আর বাকি অনেকগুলো চলছে দেনায় ডুবে ও অর্ধেক উৎপাদন ক্ষমতায়।
মূল সমস্যা হলো অর্থ সংকট, ঋণপ্রাপ্তিতে জটিলতা এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের নিলামমূল্য কম হওয়া।
চা খাত কৃষি ও শিল্প উভয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এ খাতে কৃষি ঋণের মতো সুবিধা নেই, বরং উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বাজারে মূল্য হ্রাস ও ঋণ না পাওয়ার কারণে বাগানগুলো নগদ অর্থ সংকটে পড়েছে। অনেক বাগান ভবিষ্যত তহবিল বা রেশন বকেয়া রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কঠোর নিয়ম শিথিল করার দাবি তুলেছেন এবং কৃষি ঋণের মতো স্বল্পসুদে ঋণের আবেদন করেছেন।
এই খাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেন। উৎপাদন ব্যাহত হলে শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে এবং দেশকে চা আমদানি করতে হতে পারে।
সরকার এখন সংকট নিরসনে আলোচনা করছে এবং নীতিমালা সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে চা খাত আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম, 'দলীয় প্রতীকে স্থানীয় ভোট নয়'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এখন থেকে নির্দলীয়ভাবে হবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেয়েছে।
এর পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ফলে অতীতে পক্ষপাত, সংঘাত এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বেড়েছিল। এখন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যোগ্য ব্যক্তিরাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
একই বৈঠকে সরকার নতুন বেতন কাঠামোর জন্য একটি পে কমিশন গঠন করেছে, যেটি ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
শেষবার ২০১৫ সালে বেতন কাঠামো ঠিক হয়েছিল, আর গত ১০ বছরে মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে স্কেল জরুরি হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আইনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কেউ গ্রেপ্তার হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানাতে হবে, পুলিশের নাম, আইডি থাকতে হবে এবং কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
কারও আঘাত থাকলে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এসব নিয়ম মানা হলে ইচ্ছেমতো গ্রেপ্তার, গুম বা হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে সরকার আশা করছে।
এছাড়া, মাইলস্টোনের ঘটনায় দুই শিক্ষকের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদের প্রধান শিরোনাম, 'জামিন নাকচ, সচিবালয়ে ভাঙচুর-হত্যাচেষ্টা মামলায় চারজন কারাগারে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সচিবালয়ে ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
গত মঙ্গলবার মাইলস্টোন স্কুলে জঙ্গি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা পরদিন এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ নানা দাবিতে "মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়" কর্মসূচি পালন করে।
প্রথমে তারা শিক্ষাভবনের দিকে গেলেও পরে সচিবালয়ের মূল গেটের সামনে অবস্থান নেয়। তখন গেট বন্ধ করে দিলে শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী তারা লাঠি, ইটপাটকেল ছুঁড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এতে অনেকে আহত হয়, ৬৬ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে যায়। পরে পুলিশ টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয় এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জামিন না দিয়ে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণায় দেরি হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা না দিতে পারায় ক্ষোভ থেকে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করে।

ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, 'দগ্ধ আরো দুই শিশুর মৃত্যু'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে দুই শিক্ষার্থী মাহতাব ও মাহিয়া গতকাল বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গেছে। অনেকেই এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ছয়জন আইসিইউতে রয়েছে।
তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য রয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে ৩১ জন, মাইলস্টোন বলছে ২৪ জন, আবার আইএসপিআর বলছে ৩৪ জন।
নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশুর পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। এখনো তিন শিক্ষার্থী ও দুই অভিভাবক নিখোঁজ রয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটি হয়ে গেলেও অনেক শিক্ষার্থী কোচিংয়ের জন্য ভেতরে ছিল, যা নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এক মা বলেন, তার মেয়েকে বাধ্য করা হতো কোচিংয়ে থাকতে, নইলে হয়তো সে বেঁচে যেত।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় মানুষ এবং সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
আহতদের চিকিৎসায় ভারতীয় একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকায় এসেছে এবং চীনা চিকিৎসক দলও পৌঁছেছে।
মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং হতাহতদের তালিকা হালনাগাদ করছে।









